গৃহস্থালির টুকিটাকি | Tanzil's Blog

গৃহস্থালির টুকিটাকি

December 5, 2017, 1:35 am, By admin

post image

গৃহস্থালি সামলাতে গিয়ে ছোটখাট নানা ঝামেলায় হিমশিম খেতে হয় প্রায়ই। এতে সময় তো নষ্ট হয়ই, মেজাজটাও হুট করে যায় বিগড়ে। এ ধরণের সমস্যার সহজ কিছু সমাধান জেনে নিনঃ

১। পাত্রের কানায় সামান্য মাখন বা গ্লিসারিন লাগিয়ে দিলে দুধ উথলে পড়ার সমস্যা থাকে না।

২। ফ্রিজে একটি পাতিলেবু টুকরো টুকরো করে কেটে রেখে দিলে ফ্রিজের ভেতরে গন্ধ থাকবে না।

৩। যে সব সবজি বা আনাজ কাটলে হাতে কালচে দাগ হয় তা কাটার আগে হাতে সরষের তল মাখলে কালচে দাগ আর হবে না।

৪। চায়ের কাপে লেঘে থাকা বাদামী দাগ লবণ দিয়ে ঘষলে উঠে যায়।

৫। পানিতে সামান্য কেরোসিন মিশিয়ে রান্নাঘর মুছলে মাশা-মাছি ও পিঁপড়ের উৎপাত কমে যায়।

৬। খানিকটা কর্পূর ছিটিয়ে দিলে ছারপোকার উপদ্রব থাকবে না।

৭। বাড়তি বাটা মশলা সামান্য তেল ও লবণ মাখিয়ে রেখে দিলে কয়েকদিন পরও ব্যবহার করা যায়।

৮। কয়েক ফোটা ভিনিগার ছিটিয়ে দুয়ে নিলে বাসনপত্রে আর আঁশটে গন্ধ থাকবে না।

৯। ভাজার জন্য কেটে রাকা বেগুন বেশ কিছুক্ষণ আগে লবণ-হলুদ মাখিয়ে রাখলে ভাজতে তেল কম লাগে।

১০। বেকিং সোডার সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে পাত্রের গায়ে মেখে কয়েক ঘন্টা রেকে ধুয়ে নিলে পাত্রের পোড়া দাগ উঠে যাবে।

১১। তরকারি কাটার সময় আঙ্গুলে দাগ পড়লে ভিনিগার অথবা লাবুর রসে লবণ মিশিয়ে আঙ্গুলে লাগিয়ে রেখে ধুয়ে নিলে দাগ উঠে যায়।

১২। চিনির পাত্রে কয়েকটি লবঙ্গ রাখলে পিঁপড়া আসবে না।

১৩। বিস্কুটের টিনের ভেতরে ব্লটিং পেপার রেখে দিলে বর্ষাকালেও বিস্কুট মছমছে থাকে।

১৪। রান্নাঘরে কাগজ পোড়া ধোঁয়া দিলে মাকড়সার উৎপাত কমে যাবে।

১৫। তেলে আচার ডুবিয়ে রাখলে আচারে ফাঙ্গাস পড়ে না।

১৬। সিদ্ধ করা আলু যোগ করুন তরকারী বা ডালে। লবণ কমা পর্যন্ত ফুটিয়ে নিন। তারপর আলুগুলো তুলে ফেলতে পারেন যদি ইচ্ছা হয়।

১৭। আচার তৈরি করার সময় তেলে একটু ভিনিগার মিশিয়ে নিলে আচার অনেকদিন ভালো থাকে।

১৮। রেফ্রিজারেটর ঘন ঘন খুললে ও বন্ধ করলে ভেতরে বাতাস ঢুকে খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং বিদ্যুৎ খরচ হয় বেশি। তাই বারবার না খুলে চেষ্টা করতে হবে রান্নায় যা যা লাগবে তা একবারে বের করে নেয়া।

১৯। দেশলাই বাক্সে কয়েকটা শুকনো চাল রেখে দিলে বর্ষাকলেও দেশলাই কাঠির বারুদ ভাল থাকে।

২০। রান্নার সময় হাতে হলুদের দাগ হলে, আলুর খোসা ছাড়িয়ে হাতে ঘষে ধুয়ে নিলে আর হলুদের দাগ থাকে না।

২১। একসাথে অনেক রসুন ছাড়াতে সময় বেশি লাগে। আস্ত রসুন ফুটন্ত জলে মিনিট দুয়েক ভিজিয়ে হাতে ঘষলে ওপরের খোসা ছেড়ে যায়।

২২। রান্নার সময় সাধারণ হাঁড়ি-পাতিলের পরিবর্তে প্রেসারকুকার ব্যবহার করুন। এতে সময় কম লাগবে।

২৩। আটার ভুষি দিয়ে বাসন মাজলে পরিষ্কার ও ঝকঝকে হয়।

২৪। রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষিত খাবার দ্রুত গরম করতে মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করুন।

২৫। পিঁয়াজ কাটার আগে দুফালি করে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে কাটলে চোখের পানি আসে না।

২৬। কম সময়ে রান্না করার জন্য বাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডে প্রস্তুতকৃত গুঁড়া মসলা ও সস হাতের কাছে রাখুন।

২৭। চিনির পাত্রের মধ্যে দু-চারটি লবঙ্গ দিয়ে রাখলে পিঁপড়ে ঢুকবে না।

২৮। পরদিন রান্না করার জন্য মাংস সেদ্ধ এবং ঠান্ডা করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।

২৯। ঘরের বাইরে খাবার নিতে হলে যদি সাধারণ টিফিন বাক্স ব্যবহার করা হয় তাহলে খাবার বাতাসে ঠান্ডা করে নিতে হবে। কখনোই গরম গরম খাবার বাক্সে নেওয়া যাবে না, এতে খাবার গন্ধ হয়ে যেতে পারে।

৩০। ভাত রান্না করার ক্ষেত্রে রাইসকুকার ব্যবহার করুন।

৩১। রান্না করা খাবার রেফ্রিজারেটরে রাখার আগে বাতাসে ঠান্ডা করে নিতে হবে। গরম খাবার রাখলে রেফ্রিজারেটর নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৩২। সবজি পরিষ্কার করে কেটে প্যাকেটজাত করে রেফ্রিজারেটরে রাখতে পারেন। এতে কম সময় ব্যয় হবে।

৩৩। ভ্রমণে শুকনা খাবার নেওয়াই ভালো। অনেকক্ষণ খাবার ভালো থাকে।

৩৪। বাজার থেকে মাছ-মাংস কেনার সময় পরিষ্কার করে কেটে নিয়ে আসুন। এতে কাজে সুবিধা হবে।

৩৫। আচারে তেল কম হলে তেল ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে দিলে গন্ধ হয় না।

৩৬। খাবার বেশিক্ষণ গরম রাখার জন্য হটপট বা তাপ অপরিবাহী পাত্র ব্যবহার করুন।

৩৭। পেয়াঁজ এবং আলু একসাথে একই পাত্রে রাখলে তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।

৩৮। রান্নার সময় কোনো কিছু মাপার জন্য পরিমাপক পাত্র (কাপ, চামচ) ব্যবহার করুন। কাজে সুবিধা হবে।

৩৯। ভারী বেগুণের হালকা বেগুণ ভালো। কারণ ভারী বেগুণে বিচি বেশি থাকে।

৪০। ডিম ফাটানোর সময় সাদা অংশটা আলাদা করার জন্য ফেটানো ডিম ছাকনিসহ ফানেলের মধ্যে ঢালুন, দেখবেন সাদা অংশ নিচে পড়েছে, কুসুম উপরে রয়ে গেছে।

৪১। বাজার থেকে কেনা যে কোনো পাকা ফল খাওয়ার আগে অন্ততঃ আধঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে নেওয়া উচিত। কারণ বেশির ভাগ ফল পাকানো ও সংরক্ষণের জন্য কারবাইড ও ফরমালিন ব্যবহার করা হয়।

৪২। মাছ ও মাংস রান্না করার জন্য রেফ্রিজারেটর থেকে নামালে বরফ গলিয়ে বেশিক্ষণ বাইরে রাখা যাবে না। তাতে গরমে সেগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৪৩। ভাত সিদ্ধ হওয়ার আগে পানিতে কয়েক ফোটা লেবুর রস ও এক চামচ তেল দিলে ভাত ঝরঝরা থাকে।

৪৪। পোলাও বা খিচুড়ি অথবা চাইনিজ রাইস তৈরির জন্য চালে সামান্য তেল, পেঁয়াজ, লবণ ও সবজি মিশিয়ে রাইসকুকারে দিন। পাঁচ মিনিটে রান্না হয়ে যাবে আপনার সুস্বাদু মজাদার খাবার।

৪৫। ন্যুডলস সিদ্ধ করার পর সাথে সাথে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিলে ঝরঝরা থাকে।

৪৬। কোন কিছু ওভেনে বেক করার জন্য অ্যালুমিনিয়াম পাত্রের তলায় একটু বাটার বা ঘি ছড়িয়ে দিন। দেখবেন খুব সহজে বেক করা খাবার বের করতে পারবেন ও ফ্লেভারটা ভালো হবে।

৪৭। যে কোনো মসল্লা শীতল ও অন্ধকার জায়গায় রাখলে বেশিদিন ভালো থাকে।

৪৮। স্যুপ বা স্যুপি নুডলসের সঙ্গে টুকরা করা ব্রেডে রসুন, বাটার, সামান্য চিনি ও গোলমরিচের পেস্ট লাগিয়ে কয়েক মিনিট গ্রিল বা সেঁকে মচমচে পরিবেশন করুন, দেখবেন খেতে মুখরোচক হবে।

৪৯। চাল ধোয়া জলে স্টীল ও কাঁচের বাসন কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে তারপর ধুয়ে নিলে বাসনগুলো ঝকঝক করবে।

৫০। পরোটা নরম রাখার জন্য জন্য ময়দা গরম পানি বা টকদই দিয়ে মেখে পাতলা কাপড় দিয়ে কিছুক্ষণ জড়িয়ে রাখুন। দেখবেন খুব সুন্দর নরম ও মজাদার হয়েছে। আবার রুটি বা পরোটা তৈরির সময় বেলার বেলুনে ময়দা বা আটা জড়িয়ে যায়। এ জন্য এগুলো তৈরির আগে অল্প সময়ের জন্য বেলুন ফ্রিজে ঠান্ডা করুন। তাহলে বেলুন দিয়ে বেলার সময় গায়ে কিছু জড়াবে না।

৫১। পিঁপড়ার অত্যাচার থেকে বাঁচতে চিনির বয়ামে কয়েকটি লবঙ্গ রেখে দিন। পিঁপড়া আসবে না।

৫২। মাংস সেদ্ধ না হলে এক টেবিল চামচ সিরকা মিশিয়ে দিন। কাজ হবে দ্রুত।

৫৩। পাকা কলা ঘরে থাকলেই কালো হয়ে যায়। এ সমস্যার সমাধানে কলা ভেজা কাপড়ে মুড়ে ফ্রিজে রাখতে পারেন, খোসা কালো হবে না।

৫৪। রসুনের খোসা ছাড়ানো বিরক্তিকর কাজগুলোর একটি। কাটার আগে রসুন কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সহজেই উঠে আসবে রসুনের গায়ের পাতলা প্রলেপ।

৫৪। মোমবাতি ফ্রিজে রাখলে ক্ষয় কম হয়।

৫৫। কাচা মরিচ বোঁটা খুলে সংরক্ষণ করলে অনেকদিন তাজা থাকে।

৫৬। ওল অথবা কচু রান্না করার সময় একটু তেঁতুল মিশিয়ে নিন। গলা ধরবে না।

৫৬। ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করতে এক টুকরো লেবু কেটে রেখে দিন।

৫৭। পেঁয়াজের খোঁসা ছাড়িয়ে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে কাটার সময় চোখ জ্বালা করবে না।

৫৮। মুড়ি নরম হয়ে গেলে চুলার আঁচে খানিক্ষন গরম করে নিন। মচমচে হয়ে উঠবে।

৫৯। কড়াই কিংবা ফ্রাইপ্যানে খাবার পুড়িয়ে ফেললে দাগ পড়ে যায়। এই দাগ দূর করতে কুচানো কিছু পেঁয়াজ দিয়ে গরম পানি ঢেলে রেখে দিন। এরপর পরিস্কার করে ফেলুন, পোড়া উঠে যাবে।

৬০। শুকনা নিমপাতা গুঁড়া করে রান্নাঘরে ছড়িয়ে দিলে পোকার উপদ্রব কমবে।

৬১। অনেক সময় বয়ামের লবণ গলে পানি হয়ে যায়। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কয়েকটি চাল ফেলে রাখুন বয়ামে।

৬২। তরকারিতে হঠাৎ লবণ বেশি পড়ে গেলে একটি আলু কেটে দিয়ে দিন। অতিরিক্ত লবণ টেনে নিবে। সামান্য টক দিলেও তরকারির লবণ কমে আসবে।

৬৩। অনেক সময় ডিম সেদ্ধ করতে গেলে ফেটে যায়। পানিতে এক চিমটি লবণ দিয়ে সেদ্ধ করলে ফাটবে না ডিম।

৬৪। ধনেপাতা ও লেটুস পাতা ফ্রিজে রাখার আগে গোড়ার অংশ কেটে রাখুন। অনেকদিন তাজা থাকবে।

৬৫। আপেল কাটার কিছুক্ষণের মধ্যে তা কালচে হয়ে যায়। কাটার পরপরই খানিকটা লেবুর রস ছড়িয়ে দিন। তাজা থাকবে আপেল।

৬৬। গরম খাবার চাখতে গিয়ে জিহ্বা পুড়ে গেলে দ্রুত খানিকটা চিনি মুখে দিন। ধীরে ধীরে কমে যাবে জ্বলুনি।

Related articles

post image

© Copyright by Tanzil Huda, 2019

Facebook Twitter LinkedIn GooglePlus